WBCS Mains — History Optional (Paper 1)
Unit A, Topic 5: THE MAURYAN EMPIRE (মৌর্য সাম্রাজ্য)
ভিত্তি; চন্দ্রগুপ্ত, কৌটিল্য ও অর্থশাস্ত্র; অশোক; ধর্ম (ধম্ম); লিপি/অনুশাসন (Edicts); শাসনব্যবস্থা, প্রশাসন; অর্থনীতি; শিল্প, স্থাপত্য, ভাস্কর্য; বৈদেশিক সম্পর্ক; ধর্ম; সাহিত্য; পতন।
১. মৌর্য সাম্রাজ্যের ভিত্তি (Foundation of the Mauryan Empire)
প্রায় ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য শেষ নন্দ রাজা ধননন্দকে উৎখাত করে পাটলীপুত্রকে রাজধানী করে ভারতের প্রথম বৃহৎ সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য — মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তাঁর প্রখ্যাত প্রধান মন্ত্রী কৌটিল্য (যাঁকে চাণক্য বা বিষ্ণুগুপ্তও বলা হয়, এবং যিনি প্রথাগতভাবে ‘অর্থশাস্ত্র’-এর রচয়িতা হিসেবে পরিচিত) কর্তৃক পরিচালিত হয়েছিলেন।
* সেলুকাস নিকেটরকে পরাজিতকরণ: চন্দ্রগুপ্ত আনুমানিক ৩০৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সেলুকাস নিকেটরকে (মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডারের প্রাক্তন সেনাপতি, যিনি আলেকজান্ডারের সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন) পরাজিত করেন। এর ফলে চুক্তি অনুযায়ী ৫০০টি যুদ্ধহস্তীর বিনিময়ে চন্দ্রগুপ্ত এক বিশাল ভূখণ্ড (বর্তমান আফগানিস্তান ও বেলুচিস্তানের অংশ) লাভ করেন। একই সাথে একটি বিবাহ সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে — এর ফলস্বরূপ মেগাস্থিনিস সেলুকাসের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাটলীপুত্রে আগমন করেন।
* সাম্রাজ্যের বিস্তার: চন্দ্রগুপ্তের সাম্রাজ্য উত্তর-পশ্চিমের হিন্দু কুশ পর্বতমালা থেকে দক্ষিণে দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল (জৈন ঐতিহ্য অনুসারে, জীবনের শেষভাগে তিনি সিংহাসন ত্যাগ করে ভদ্রবাহুর অধীনে জৈন সন্ন্যাসী হন এবং কর্ণাটকের শ্রাবণবেলগোলায় দেহত্যাগ করেন)।
🔍 ঐতিহাসিকদের বিতর্ক — কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র কতটা মৌর্য যুগের?
* প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি: অর্থশাস্ত্র হলো কৌটিল্যের লেখা সরাসরি প্রশাসনিক নির্দেশিকা, তাই এটি মৌর্য শাসনব্যবস্থার বাস্তব দলিল।
* আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: টেক্সট ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনেক আধুনিক ইতিহাসবিদ দাবি করেন যে, আমরা আজ যে রূপটি দেখি তা বহু শতাব্দী ধরে সংকলিত ও পরিবর্ধিত হয়েছে (সম্ভবত খ্রিস্টীয় ২য়-৩য় শতকে চূড়ান্ত রূপ পায়)। তাই এটিকে ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মৌর্য প্রশাসনের হুবহু ছবি না ভেবে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ‘আদর্শ বা তাত্ত্বিক গ্রন্থ’ হিসেবে দেখা উচিত। তবে আর. পি. কাংলে-র গবেষণায় এর মূল অংশটিকে মৌর্য যুগের বলেই গ্রহণ করা হয়েছে।
* পরীক্ষায় উত্তর লেখার কৌশল: মৌর্য যুগের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক চিন্তা তুলে ধরতে অর্থশাস্ত্র আত্মবিশ্বাসের সাথে ব্যবহার করুন, তবে এটিকে একমাত্র ও চূড়ান্ত ঐতিহাসিক সত্য না ধরে একটি সচেতন উৎস-সতর্কতা (source-caution) উল্লেখ করুন।
২. অশোক ও ‘ধম্ম’-এর ধারণা (Asoka and the Concept of Dhamma)
চন্দ্রগুপ্তের পৌত্র সম্রাট অশোক (রাজত্বকাল আনুমানিক ২৬৮–২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) হলেন মৌর্য বংশের সর্বাধিক বিখ্যাত শাসক — যিনি মূলত তাঁর নিজস্ব শিলালিপি ও স্তম্ভলিপির জন্য পরিচিত।
* কলিঙ্গ যুদ্ধ (আনুমানিক ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ): এটি তাঁর জীবনের একটি বড় পরিবর্তন এনেছিল। এই যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত (যা অশোকের ত্রয়োদশ শিলালেখ বা 13th Major Rock Edict-এ বর্ণিত) তাঁকে গভীর অনুশোচনায় ফেলে এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ ও ‘ধম্ম’ প্রচারের দিকে চালিত করে।
* ধম্ম-এর প্রকৃতি: ‘ধম্ম’ কোনো নতুন ধর্ম ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র কর্তৃক প্রচারিত একটি সর্বজনীন নৈতিক আচরণবিধি। এর মূল নীতি ছিল — অহিংসা, সকল ধর্মের প্রতি সহনশীলতা ও শ্রদ্ধা, গুরুজন ও শিক্ষকদের সম্মান, দাস ও ভৃত্যদের প্রতি দয়া, জনকল্যাণমূলক কাজ (বৃক্ষরোপণ, কূপ খনন, বিশ্রামাগার ও পশু হাসপাতাল নির্মাণ) এবং সামাজিক সম্প্রীতি।
* ধম্ম মহামাত্র: সাম্রাজ্যজুড়ে ধম্ম প্রচার ও পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ধম্ম মহামাত্র’ নামক বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল।
🔍 ঐতিহাসিকদের বিতর্ক — অশোকের ধম্ম কি মূলত বৌদ্ধধর্ম ছিল, নাকি একটি পৃথক সর্বজনীন নৈতিকতা?
* পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি: প্রাচীন ইতিহাসবিদদের মতে, ধম্ম ছিল অশোকের রাজধর্ম হিসেবে বৌদ্ধধর্মকে প্রচার করার পদ্ধতি।
* রোমিলা থাপারের বিশ্লেষণ: প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার যুক্তি দেখান যে, ধম্ম ছিল একটি বিশাল, বৈচিত্র্যময় এবং বহু-ধর্মীয় সাম্রাজ্যকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য সচেতনভাবে তৈরি করা একটি ‘সামাজিক-রাজনৈতিক আদর্শ’ (Imperial Ideological Policy of Social Integration)। অশোক অন্যান্য সম্প্রদায়কেও (যেমন আজীবিক, ব্রাহ্মণ) পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন, যা প্রমাণ করে ধম্ম কোনো চাপিয়ে দেওয়া ধর্মীয় মতবাদ ছিল না।
৩. অনুশাসন বা শিলালিপি (Edicts)
অশোকের অনুশাসনগুলো (যা সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃত ভাষায় ব্রাহ্মী, খরোষ্ঠী, গ্রিক ও অরামীয় লিপিতে উৎকীর্ণ) মৌর্য ইতিহাসের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ ও নির্ভরযোগ্য উৎস।
* প্রধান শিলালেখ (14 Major Rock Edicts): গিরনার, কলসি, শাহবাজগড়হি ইত্যাদি স্থানে প্রাপ্ত; এতে ধম্ম, কলিঙ্গ যুদ্ধের অনুশোচনা, জনকল্যাণ ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিবরণ রয়েছে।
* ক্ষুদ্র শিলালেখ (Minor Rock Edicts): এতে অশোকের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বৌদ্ধধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিবরণ রয়েছে।
* স্তম্ভলেখ (7 Major Pillar Edicts): দিল্লি-তোপরা, লাউড়িয়া-নন্দনাগড় ইত্যাদি স্থানে প্রাপ্ত; এতে প্রশাসনিক নির্দেশ ও ধম্মের মূলনীতি বর্ণিত। সারনাথের সিংহচতুর্মুখ স্তম্ভশীর্ষটি ভারতের জাতীয় প্রতীক।
* পৃথক কলিঙ্গ শিলালেখ (Dhauli and Jaugada): ধৌলি ও জৌগড়ায় প্রাপ্ত; সদ্য বিজিত কলিঙ্গবাসীর সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৪. শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসন (Polity and Administration)
* প্রাদেশিক বিভাগ: সাম্রাজ্যটি কয়েকটি প্রধান প্রদেশে বিভক্ত ছিল, যার প্রধান ছিলেন রাজপরিবারের সদস্যরা (কুমার বা আর্যপুত্র)। যেমন — তক্ষশিলা, উজ্জয়িনী, তোশালী (কলিঙ্গ) ও সুবর্ণগিরি।
* কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্র: অর্থশাস্ত্রে বর্ণিত বিভিন্ন 'অধ্যক্ষ' (Superintendents) নির্দিষ্ট বিভাগ পরিচালনা করতেন (যেমন — বাণিজ্য, কৃষি, খনি, ওজন ও মাপ ইত্যাদি)।
* গুপ্তচর ব্যবস্থা: কর্মকর্তা ও জনগণের ওপর নজরদারি চালাতে শক্তিশালী গুপ্তচর নেটওয়ার্ক (সংস্থা ও সঞ্চারা) গড়ে তোলা হয়েছিল।
* নগর প্রশাসন: মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ অনুযায়ী, পাটলীপুত্রের নগর প্রশাসন ৩০ জন সদস্যের একটি পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হতো, যা ৫ জন করে ৬টি কমিটিতে বিভক্ত ছিল।
🔍 ঐতিহাসিকদের বিতর্ক — মৌর্য সাম্রাজ্য কি একটি অতি-কেন্দ্রীভূত ‘একক’ (Unitary) রাষ্ট্র ছিল?
* পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি: অর্থশাস্ত্রের তাত্ত্বিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে মনে করা হতো যে, মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত ও আমলাতান্ত্রিক।
* রোমিলা থাপারের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি: প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলভেদে ভিন্ন ছিল। কেন্দ্রীয় অঞ্চল (মগধ/গঙ্গা উপত্যকা) সরাসরি ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো, কিন্তু প্রান্তিক বা সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে (যেমন — দাক্ষিণাত্য বা কলিঙ্গ) আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও স্থানীয় কাঠামো অনেকটাই বজায় রাখা হয়েছিল।
৫. অর্থনীতি (Economy)
* রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ: অর্থশাস্ত্র অনুসারে খনি, বন ও প্রধান প্রধান শিল্পের ওপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া অধিকার বা সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল।
* ভূমিরাজস্ব: উৎপাদনের সাধারণত ১/৬ অংশ ‘ভাগ’ (Bhaga) হিসেবে কর নেওয়া হতো।
* মুদ্রাব্যবস্থা: রৌপ্য ও তামার ছাপাঙ্কিত মুদ্রা (Punch-marked coins) ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।
* পরিকাঠামো উন্নয়ন: বিখ্যাত রাজপথ (যা পরে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড হিসেবে পরিচিত হয়) এবং সেচ প্রকল্প (যেমন চন্দ্রগুপ্তের আমলে নির্মিত জুনাগড়ের সুদর্শন হ্রদ) তৈরি করা হয়েছিল।
৬. শিল্প, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য (Art, Architecture and Sculpture)
* অশোক স্তম্ভ: একক বেলেপাথরে তৈরি, অত্যন্ত মসৃণ পলিশযুক্ত স্তম্ভ এবং তার ওপর প্রাণীর মূর্তি (যেমন সারনাথের সিংহ রাজধানী)। এতে পারসিক (Achaemenid) প্রভাবের কথা বলা হলেও এটি ভারতীয় শৈলীর অনন্য নিদর্শন।
* স্তূপ: বৌদ্ধ নিদর্শন রক্ষার্থে নির্মিত অর্ধগোলাকার স্তূপ (যেমন সাঁচি স্তূপের মূল অংশ অশোকের সময় তৈরি)।
* গুহা স্থাপত্য: বিহারের বরাবর পাহাড়ে আজীবিক সম্প্রদায়ের জন্য অশোকের তৈরি পাথর কেটে বানানো গুহা হলো ভারতের প্রাচীনতম শিলাকাটা গুহা স্থাপত্যের উদাহরণ।
🔍 ঐতিহাসিকদের বিতর্ক — মৌর্য শিল্পে পারসিক প্রভাব বনাম দেশীয় উৎস:
* কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন স্তম্ভের পালিশের কৌশল ও গঠনশৈলীতে পারস্যের প্রভাব রয়েছে।
* তবে অন্য ইতিহাসবিদরা যুক্তি দেন যে, স্তম্ভের ওপর ব্যবহৃত প্রতীক (পদ্ম, সিংহ, ধর্মচক্র) এবং এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভারতীয় মানসিকতা ও ঐতিহ্যের রূপায়ণ।
৭. বৈদেশিক সম্পর্ক (External Contacts)
* হেলেনীয় বা গ্রিক বিশ্ব: চন্দ্রগুপ্ত ও সেলুকাসের চুক্তি; মেগাস্থিনিসের আগমন; অশোকের ত্রয়োদশ শিলালেখ অনুযায়ী সিরিয়ার দ্বিতীয় আন্তিয়োকাস, মিসরের দ্বিতীয় টলেমি, মেসিডোনিয়ার আন্তিগোনাস প্রমুখ গ্রিক রাজাদের দরবারে ধম্ম মিশন পাঠানো হয়েছিল।
* শ্রীলঙ্কা: অশোকের পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রা শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম প্রচার করতে যান, যা সুদূরপ্রসারী সাংস্কৃতিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
৮. ধর্ম, ধর্মের বিস্তার ও সাহিত্য (Religion and Literature)
* ধর্মীয় নীতি: অশোক স্বয়ং বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তাঁর আমলে পাটলীপুত্রে তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয়। তবুও তিনি আজীবিক ও ব্রাহ্মণদের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন।
* সাহিত্য: কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্র', অশোকের 'শিলালেখ', মেগাস্থিনিসের 'ইন্ডিকা' এবং শ্রীলঙ্কার 'মহাবংশ' ও 'দীপবংশ' মহাকাব্য প্রধান লিখিত উৎস।
৯. সাম্রাজ্যের পতন (Disintegration of the Empire)
২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অশোকের মৃত্যুর পর মৌর্য সাম্রাজ্য দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। অবশেষে আনুমানিক ১৮৫/১৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শেষ মৌর্য সম্রাট বৃহদ্রথকে তাঁরই সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ হত্যা করে শুঙ্গ রাজংশের গোড়াপত্তন করেন।
পতনের প্রধান কারণসমূহ:
* অশোকের পরবর্তী দুর্বল উত্তরাধিকারী।
* অর্থশাস্ত্রে বর্ণিত বিশাল আমলাতন্ত্র ও সেনাবাহিনী পরিচালনার আর্থিক চাপ।
* উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ব্যাকটীয় গ্রিকদের আক্রমণ।
* কেন্দ্র দুর্বল হওয়ায় দূরবর্তী প্রদেশগুলোর স্বাধীনতা ঘোষণা।
🔍 ঐতিহাসিকদের বিতর্ক — অশোকের অহিংসা/ধম্ম নীতিই কি পতনের জন্য দায়ী ছিল?
* ভিনসেন্ট স্মিথ ও এইচ. সি. রায়চৌধুরীর মত (পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি): অশোকের অতি-অহিংসা ও সামরিক অভিযান বর্জন মৌর্য সেনাবাহিনীকে নিষ্ক্রিয় ও দুর্বল করে দিয়েছিল, যার ফলে সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
* রোমিলা থাপারের খণ্ডন (আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি): অশোক কখনোই সেনাবাহিনী ভেঙে দেননি। পতনের মূল কারণ ছিল কাঠামোগত — প্রশাসনিক অতি-কেন্দ্রিকতা, দুর্বল শাসক এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কেন্দ্র ও প্রান্তের মধ্যে সংযোগের অভাব।
📝 দ্রুত রিভিশন পয়েন্ট (Quick Revision Points)
* শাসকক্রম: চন্দ্রগুপ্ত (প্রতিষ্ঠাতা) → বিন্দুসার → অশোক (কলিঙ্গ যুদ্ধ ২৬১ খ্রিঃপূঃ → ধম্ম) → দুর্বল শাসকগণ → বৃহদ্রথ (পুষ্যমিত্র শুঙ্গ কর্তৃক নিহত, ১৮৫ খ্রিঃপূঃ)।
* প্রধান উৎস: অর্থশাস্ত্র, ইন্ডিকা, অশোকের অনুশাসন, দীপবংশ/মহাবংশ।
* ধম্ম: সামাজিক ঐক্যের জন্য সর্বজনীন নীতি, কোনো রাষ্ট্রীয় বৌদ্ধধর্ম নয় (রোমিলা থাপার)।
* পতনের বিতর্ক: প্রশাসনিক কাঠামোগত দুর্বলতা (থাপার) বনাম অশোকের অহিংসা নীতি (ভিনসেন্ট স্মিথ, যা বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয়)।
WBCS Mains — History Optional (Paper 1) — PYQ Answer Booster
তিনটি বিগত বছরের প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধানকৃত উত্তর (Fully Worked-Out Answers)
Q1. Discuss the administrative system of the Mauryan Empire. (20 Marks)
(মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আলোচনা করো। — ২০ নম্বর)
উত্তর সংকেত/কাঠামো:
ভূমিকা → কেন্দ্রীয় শাসন → প্রাদেশিক শাসন → জেলা ও গ্রাম প্রশাসন → নগর প্রশাসন (পাটলীপুত্র) → সামরিক প্রশাসন → গুপ্তচর ব্যবস্থা → বিচার ব্যবস্থা → রাজস্ব ব্যবস্থা → মূল্যায়ন ও উপসংহার।
মূল উত্তর:
ভূমিকা:
মৌর্য সাম্রাজ্য (আনুমানিক ৩২১-১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) প্রাচীন ভারতে প্রথম একটি সুসংগঠিত ও আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্ম দেয়। এই শাসনব্যবস্থা জানার প্রধান উৎসগুলো হলো কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ (প্রশাসনিক আদর্শের তাত্ত্বিক গ্রন্থ), মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’ (মেগাস্থিনিসের নিজস্ব অভিজ্ঞতা) এবং সম্রাট অশোকের ‘শিলালেখ বা অনুশাসন’।
১. কেন্দ্রীয় প্রশাসন:
* সম্রাট: শাসনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন স্বয়ং রাজা। অর্থশাস্ত্র অনুযায়ী, রাজাকে সর্বদাই প্রজা কল্যাণ ও রাজ্য পরিচালনায় নিয়োজিত থাকতে হতো।
* মন্ত্রীপরিষদ: রাজাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি 'মন্ত্রীপরিষদ' থাকত। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজাই ভোগ করতেন।
* অধ্যক্ষবৃন্দ (Bureaucracy): অর্থশাস্ত্রে বিভিন্ন বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট ‘অধ্যক্ষ’-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন — আকরাধ্যক্ষ (খনি বিভাগ), সীতাধ্যক্ষ (কৃষি বিভাগ), পণ্যাধ্যক্ষ (বাণিজ্য বিভাগ), শুল্কাধ্যক্ষ (কর ও শুল্ক বিভাগ)।
২. প্রাদেশিক প্রশাসন:
* বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রধান প্রদেশে ভাগ করা হয়েছিল। যেমন — তক্ষশিলা (উত্তর-পশ্চিম), উজ্জয়িনী (পশ্চিম), তোশালী (কলিঙ্গ) এবং সুবর্ণগিরি (দক্ষিণ)।
* প্রদেশগুলোর শাসনের দায়িত্বে থাকতেন রাজপরিবারের সদস্যরা, যাদের 'কুমার' বা 'আৰ্যপুত্র' বলা হতো। এর ফলে রাজপুত্ররা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা লাভ করতেন।
৩. জেলা ও গ্রাম প্রশাসন:
* প্রদেশের নিচে থাকত জেলা বা বিষয়, যা 'প্রদেষ্ট্রী' বা 'রাজুক' (অশোকের আমলে বিচার ও প্রশাসনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত আধিকারিক) দ্বারা পরিচালিত হতো।
* প্রশাসনের সর্বনিম্ন একক ছিল গ্রাম। 'গোপ' (৫-১০টি গ্রামের হিসাবরক্ষক) এবং 'স্থানিক' রাজস্ব ও নথিপত্র সংগ্রহের কাজ করতেন।
৪. নগর প্রশাসন (পাটলীপুত্র):
* মেগাস্থিনিসের বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানী পাটলীপুত্রের শাসনভার ৩০ জন সদস্যের একটি নগর পরিষদের হাতে ছিল।
* এই পরিষদ ৫ জন করে ৬টি সমিতিতে (Boards) বিভক্ত ছিল। এই কমিটিগুলো শিল্প, বিদেশী পর্যটক পর্যবেক্ষণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, বাণিজ্য, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্রয় কর সংগ্রহের কাজ করত।
৫. সামরিক প্রশাসন:
* মেগাস্থিনিসের মতে, ৩০ জন সদস্যের একটি বিশেষ সামরিক বোর্ড সেনাবাহিনী পরিচালনা করত।
* এই বোর্ডটি ৬টি শাখায় বিভক্ত ছিল: পদাতিক, অশ্বারোহী, রথারোহী, হস্তিবাহিনী, নৌবাহিনী এবং সামরিক পরিবহন/রসদ সরবরাহ।
৬. গুপ্তচর ব্যবস্থা (Guptachara System):
* মৌর্য প্রশাসনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল শক্তিশালী গুপ্তচর ব্যবস্থা। 'সংস্থা' (একস্থানে স্থায়ী) এবং 'সঞ্চারা' (ঘুরে বেড়ানো) — এই দুই ধরনের গুপ্তচর রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সততা পর্যবেক্ষণ করত।
৭. বিচার ব্যবস্থা:
* অর্থশাস্ত্রে দুই ধরনের আদালতের উল্লেখ রয়েছে: 'ধর্মস্থীয়' (দেওয়ানি আদালত) এবং 'কণ্টকশোধন' (ফৌজদারি আদালত)।
* অশোকের আমলে বিচারে মানবিক ছোঁয়া যুক্ত হয়; যেমন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য ৩ দিনের আপিল করার সময়সীমা দেওয়া হতো।
৮. রাজস্ব প্রশাসন:
* ' সমাহর্তা' (Collector-General) ছিলেন রাজস্ব সংগ্রহের প্রধান এবং 'সংবিধাতা' ছিলেন রাজকোষের দায়িত্বে।
* কৃষিজমির উৎপাদিত ফসলের ১/৬ অংশ ‘ভাগ’ (Bhaga) হিসেবে নেওয়া হতো। তাছাড়া শুল্ক ও খনি থেকেও রাজস্ব আসত।
সমালোচনা ও উপসংহার:
ঐতিহাসিক রোমিলা থাপার সতর্ক করেছেন যে, অর্থশাস্ত্রে বর্ণিত অতি-কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক মডেলটি মূলত সমগ্র সাম্রাজ্যে একইভাবে প্রযোজ্য ছিল না। মগধের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলেও দূরবর্তী ও সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বজায় ছিল। তা সত্ত্বেও, মৌর্য শাসনব্যবস্থা প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুসংগঠিত প্রশাসনিক কৃতিত্ব।
Q2. Chandragupta Maurya was the first historical emperor of India. Evaluate his achievements. (10 Marks)
(চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট। তাঁর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করো। — ১০ নম্বর)
উত্তর সংকেত/কাঠামো:
কেন 'প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট'? → সামরিক ও রাজনৈতিক কৃতিত্ব → প্রশাসনিক কৃতিত্ব → সাম্রাজ্যের সীমানা → মূল্যায়ন ও উপসংহার।
মূল উত্তর:
কেন তিনি 'প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট'?
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পূর্বে বিম্বিসার, অজাতশত্রু বা নন্দ রাজাদের মতো বহু শক্তিশালী শাসক ভারতে রাজত্ব করলেও তাঁদের ইতিহাস মূলত পরবর্তীকালের সাহিত্য বা ধর্মীয় কাহিনীর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যই প্রথম ভারতীয় শাসক, যার সময়কাল থেকে আমরা দেশীয় ও সমসাময়িক বৈদেশিক উৎসের (যেমন — মেগাস্থিনিসের ‘ইন্ডিকা’, সেলুকাসের সাথে চুক্তি, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’) একটি সঠিক ও সমন্বিত কালানুক্রমিক ইতিহাস পাই। এ কারণেই তাঁকে ভারতের "প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট" বলা হয়।
রাজনৈতিক ও সামরিক কৃতিত্ব:
* নন্দ বংশের পতন: চন্দ্রগুপ্ত তাঁর গুরু কৌটিল্যের সহায়তায় আনুমানিক ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে শেষ নন্দ রাজা ধননন্দকে পরাজিত করে মৌর্য সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
* গ্রিকদের পরাজয়: আনুমানিক ৩০৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তিনি আলেকজান্ডারের প্রাক্তন সেনাপতি সেলুকাস নিকেটরকে পরাজিত করেন। চুক্তির মাধ্যমে তিনি কাবুল, কান্দাহার, হেরাত ও বেলুচিস্তান অঞ্চল লাভ করেন, যা ভারতে গ্রিক আধিপত্যের অবসান ঘটায়।
* সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য: তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের হিন্দু কুশ থেকে শুরু করে দক্ষিণে দাক্ষিণাত্যের বিশাল অংশ জুড়ে ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য গঠন করেন।
প্রশাসনিক কৃতিত্ব:
* কৌটিল্যের নির্দেশনায় তিনি একটি দক্ষ ও সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
* মেগাস্থিনিসের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর আমলে রাজধানী পাটলীপুত্র অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও সুশাসিত এক নগরীতে পরিণত হয়েছিল।
মূল্যায়ন ও উপসংহার:
যদিও জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনের শেষভাগে তিনি সাম্রাজ্য ত্যাগ করে জৈন সন্ন্যাসী হন, তবুও ভারতের রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং ইতিহাসকে প্রাক-ঐতিহাসিক ধোঁয়াশা থেকে নিশ্চিত ঐতিহাসিক যুগে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের ভূমিকা অতুলনীয়।
Q3. How did Asoka's policy of reforms contribute to the downfall of the Mauryan Empire? (20 Marks)
(অশোকের সংস্কার নীতি কীভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনে অবদান রেখেছিল? — ২০ নম্বর)
উত্তর সংকেত/কাঠামো:
ভূমিকা → অশোকের নীতিকে দায়ী করার পক্ষে যুক্তি (ভিনসেন্ট স্মিথ ও রায়চৌধুরীর মত) → রোমিলা থাপারের খণ্ডন ও বিকল্প যুক্তি → মূল্যায়ন ও ভারসাম্যপূর্ণ উপসংহার।
মূল উত্তর:
ভূমিকা:
২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোকের মৃত্যুর মাত্র অর্ধশতাব্দীর মধ্যে (১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) শক্তিশালী মৌর্য সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। ঔপনিবেশিক ইতিহাসবিদ ভিনসেন্ট স্মিথ এবং পরবর্তীকালে এইচ. সি. রায়চৌধুরীর মতো পণ্ডিতরা দাবি করেন যে, অশোকের ‘ধম্ম’ এবং অহিংস নীতিই সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান কারণ ছিল। তবে আধুনিক ইতিহাসবিদরা এই মতকে গভীরভাবে পুনর্বিবেচনা করেছেন।
প্রথম অংশ: অশোকের নীতিকে পতনের জন্য দায়ী করার যুক্তি (পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি):
* সামরিক শক্তির অবক্ষয়: কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোক ‘ভেড়িঘোষ’ (যুদ্ধের দামামা) ত্যাগ করে ‘ধম্মঘোষ’ গ্রহণ করেন। এর ফলে মৌর্য সামরিক বাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতি ও মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীকালে গ্রিক আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়।
* অর্থনৈতিক সংকট: জনকল্যাণমূলক কাজ (রস্তাঘাট, হাসপাতাল নির্মাণ) এবং ধম্ম প্রচারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ফলে রাজকোষ ফাঁকা হয়ে যায়।
* ব্রাহ্মণদের অসন্তোষ: পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, অশোক পশুবলি নিষিদ্ধ করায় এবং বৌদ্ধধর্মকে অতিরিক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ায় ব্রাহ্মণ সমাজ অসন্তুষ্ট হয়। এর ফলেই পুষ্যমিত্র শুঙ্গের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে।
দ্বিতীয় অংশ: রোমিলা থাপারের খণ্ডন ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি:
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার এই পুরোনো তত্ত্বগুলোকে যুক্তি সহকারে খণ্ডন করেছেন:
* সেনাবাহিনী বিলুপ্ত হয়নি: অশোক অহিংসা নীতি গ্রহণ করলেও সীমান্ত রক্ষার জন্য বা অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলার জন্য সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনী ভেঙে দেননি।
* অর্থনৈতিক সংকটের প্রমাণের অভাব: প্রত্নতাত্ত্বিক বা শিলালেখভিত্তিক কোনো প্রমাণ নেই যা প্রমাণ করে যে ধম্ম প্রচারের কারণে রাজ্য দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল।
* ব্রাহ্মণ বিরোধিতার সত্যতা কম: অশোকের শিলালেখে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ও আজীবিকদেরও সমান শ্রদ্ধা করতে হবে। সুতরাং এটি কোনো ধর্মীয় বিপ্লব ছিল না।
পতনের প্রকৃত কারণ (কাঠামোগত দুর্বলতা):
রোমিলা থাপারের মতে, পতনের মূল কারণ ছিল প্রশাসনিক ও কাঠামোগত:
১. অতি-কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা: মৌর্য শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যক্তি-নির্ভর ছিল। অশোকের মতো শক্তিশালী শাসকের অবর্তমানে দুর্বল উত্তরসূরিরা এই বিশাল সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেননি।
২. প্রান্তিক অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতা: আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে কেন্দ্র থেকে সুদূর প্রদেশগুলোকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব ছিল না।
৩. আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: কেন্দ্র দুর্বল হতেই বিভিন্ন প্রদেশের রাজ্যপালরা স্বাধীনতা ঘোষণা করতে থাকেন।
উপসংহার:
পরিশেষে বলা যায়, অশোকের ধম্ম বা অহিংস নীতি মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল না। ভিনসেন্ট স্মিথের ‘সামরিক অবক্ষয়’ তত্ত্বটি অত্যন্ত সরলীকৃত। প্রকৃতপক্ষে, বিশাল ভৌগোলিক বিস্তার, আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ত্রুটি, আর্থিক চাপ এবং অশোকের পরবর্তী দুর্বল শাসকদের কারণেই মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন